Wednesday, March 26, 2008

'এক বুক অপরাহ্ন'...একজন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার তরুন স্মৃতিচারন...!

ভোর হতেই বর্ষার বিরাম নেই। বারান্দার গ্রিল ধরে কাব্য চুপচাাপ বসে আছে হুইল চেয়ারে। আনমনে বৃষ্টি দেখছে। কি অদ্ভুত এক উন্মাদনা আছে এই বর্ষনে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। তিনি পৃথিবীতে আসার পর পৃথিবীর বুকে অর্ধশতাধিক বর্ষাকাল এসেছে। তবুও যতবারই তিনি বৃষ্টি দেখেন ততবারই সেটাকে নতুন বলে মনে হয়। ওর নামের কল্যানেই কিনা, কলেজ লাইফে কবিতা লেখার বেশ ঝোঁক ছিল। অনেক আগের সেই কবি মনের খানিকটা ছিটে ফোটা হয়ত এখনও, এই বুড়ো বয়সেও রয়ে গেছে। অনেক অনেক দিন আগে মৃন্মিয়ীকে নিয়ে ও বিশাল একটা কবিতা লিখেছিলো। সেটা পড়ে মেয়েটার সেকি কান্না! ইদানিং খুব বেশী মনে পড়ছে ওকে।ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে কাব্যর প্রচন্ড ইচেছ করছে । কিন্তু হুইল চেয়ার নিয়ে তো আর সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠা যায় না। অবশ্য পৃথ্বাকে ক্ষল্লেই ও নিয়ে যাবে। কিন্তু এই মূহুর্তে ওর কাঁধে শরীরের ভর রেখে মেয়েটাকে কষ্ট দিতে মন চাইছে না। আর ছাদে যাবার কথা শুনলে ও তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয় কিনা সন্দেহ। মেয়েটার মা যাবার পর ওর বাবা আরেকটি বিয়ে করে, শেষে সৎ মায়ের পীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে ও আশ্রয় নেয় কাব্যর কাছে। ওর নানা ছিলেন কাব্যর বাল্য বন্ধু। একটু পোটে ধরনের ছিলেন। লোকমুখে কাব্য শুনেছে, ১৯৭১ সালে জগলুল পাশাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবার অপরাধে পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জগলুল পাশা ছিলো ওদের গ্রামের চেয়ারম্যান, পাকিস্তানী মিলিটারিরা গ্রামে ঢোকার পর যে নিজেকে রাজাকার বলে প্রকাশ্যে ঘোষনা দেয়।বুড়ো বয়সে মেয়েটা তার চমৎকার সঙ্গী হয়েছে। পৃথ্বাও নানুভাই বলতে অজ্ঞান। একটু আগে এসে জানতে চাইলো- ‘নানু, এখানে বসে আছো যে; ঠান্ডা লাগবে তো।’ উনি কোন কথা বল্লেন না। আর পৃথ্বাও জানে তার এই চিরকুমার নানা বেশ নিঃসঙ্গচারী। র্নিজনতাকে ভীষণ পছন্দ করেন। তাই ও-ও কথা না বাড়িয়ে ওর কাজে চলে গেল।কাব্যর ধারনা বৃষ্টি আর ঘ্রান, এ দুটো জিনিস খুব স্মৃতি প্রবন। এগুলোর সংস্পর্শে আসলে পুরনো দিনের কথা সাধারনত বেশী মনে পড়ে। আজ এই বর্ষন মুখর দিনে পুরোন দিনের কথা কাব্যরও খুব মনে পড়ছে। বিশেষ করে মৃন্ময়ীর কথা। খুব স্পষ্ট ভাবে। যেন এই তো মাস খানেক আগের কথা। অথচ এরি মধ্যে পেরিয়ে গেছে আটত্রিশটি বছর। ওর ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বজন হারাবার বেদনা, ভাঙ্গা গড়ার ইতিহাস, সব যেন নিয়তি এক সুতোয় গেথেঁ রেখেছে। ক্রমেই স্মৃতির ধুলো জমতে থাকে ওর অবচেতন মনে। এভাবে এক সময় ও হারিয়ে যায় স্মৃতির রাজ্যে।১৯৭০ সাল। মৃন্ময়ীর সাথে ওর প্রথম পরিচয় সে বছরের বাংলা প্রথম দিনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নববর্ষ উদযাপন সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মত ওরাও যোগ দিয়েছিলো। সেদিন কাব্য শতশত ছেলেমেয়ের সামনে তার স্বরচিত কবিতা পাঠ করে ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলো। ....(চলবে)

No comments: