
[আগের ২টি পর্ব পড়তে চাইলে দয়াকরে আমার পোস্ট আর্কাইভটি দেখুন। ] (সুপ্রিয় ব্লগার ভাইয়া - আপুরা, চারখন্ডে সমাপ্য চর্তুভূজে প্রেমের এই গল্পটি আপনাদের জন্য উপস্থাপন করলাম। এটি ৩য় র্পব। গল্পটি লিখা হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচকে আগে। গল্পের মধ্যে কোন অসংগতি বা বেমানান কিছু লক্ষ্য করলে আমাকে নিঃসঙ্কচে জানাবার অনুরোধ রইলো এবং আগে ভাগেই আমার সেই অপ্রত্যাশতি ভুলগুলোর জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আশাকরছি আমার গল্পটি আপনাদের কাছে খুব একটা খারাপ লাগবে না। এই গল্পটির চরিত্র ও ঘটনা পুরোপরি কাল্পনিক নয়। তবে সঙ্গত কারনে স্বল্প কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবকে শুধুমাত্র কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র। তবু অন্য কারো নাম বা ব্যক্তিগত কোন ঘটনার সাথে ব্যাপারটা মিলে গেলে সেটা হবে সম্পূর্ন কাকতালীয়।)লোপা উপাখ্যানলাপা গতকাল অনেক রাত জেগে পড়েছে। তার উপর আবার সকাল সাতটায় উঠে ক্লাস ধরতে হয়েছে। ভেবেছিলো সারা দুপুর আর বিকেল ঘুমিয়ে রাত আর সকালের ঘুমের ঘাটতিটুকু পুষিয়ে নেবে। ওর প্ল্যানট সফল হয়েছে ঠিকই তবে অনিন্দ্যও সাথে ঝগড়া করে মুডের পুরোটাই খারাপ হয়ে গেছে। ফোন ছাড়ার পর লোপা মন খারাপ করে কিছুক্ষন বসে রইল। ‘রাজনের সম্পর্কে ওকে জানানোটা মোটেও উচিৎ হয়নি’ বিড়বিড় করে বল্ল ও । এই ছেলেটাকে সে নিছক ফ্রেন্ড ছাড়া আর কিছুই্ কখনো ভাবেনি। তাই তো ও ওকে অকপটে রাজনের কথা বলেছে। কিছু দিন আগে ছেলেটা যে ওকে কিভাবে প্রোপজ করল, ও ভেবেই পায় না। ভেবেছিলো, অনিন্দ্য আর যাই হোক, ও আর দশটা ছেলের মতন না, কিছু দিন ফোনে কথা বলার পরই প্রেম নিবেদন করার মত আনসোশ্যাল ও নয়। কিন্তু ওর সে ধারনা ভেঙ্গে গেছে। সে জন্যই প্রথম প্রথম ওর সাথে দেখা করতে চায়নি, অনিন্দ্যকে এখনও ও এড়িয়ে যেতে চায়।তবে সত্যিই রাজনের সাথে কথা বলতে ওর এখন ভীষণ ইচ্ছা করছে। ইদানিং কি হয়েছে ওর, একটু মন খারাপ হলেই কথা মনে পড়ে। আর সাথে সাথেই অদ্ভুত ভালোলাগার আবেশে হৃদয়টা ভরে উঠে। আর কন্ঠে যে কি জাদু আছে! শুনলে শুধু শুনতেই ইচ্ছে করে। জীবনে প্রথম প্রেমের মজাই আলাদা, সেটা ও বেশ উপভোগ করে। মাত্র কয়েক মাস আগে রাজনের সাথে ওর পরিচয়, ওদের পরিচয়টা কিছুটা বিচিত্রভাবে হয়েছে। ওর এক বান্ধবী, তমার কাছ থেকে ওর মোবাইল ফোনের জন্য একটা সিম সেকেন্ডহ্যান্ডে কিনেছিলো, সেটার মধ্যে তমার ফুফাতো ভাই রাজনের নাম্বার ছিলো। কৌতুহলবশতঃ একদিন ঐ নাম্বারে ডায়াল করতেই অত্যন্ত স্মার্টভাবে ‘হ্যালো’ বলা হল। লোপা সাধারনত এক হ্যালোতে কাত হবার মত মেয়ে নয়, কিন্তু সেদিন যে কি হল ওর, ঘোর লাগা এক ধরনের রোমাঞ্চকর চোরাবালিতে ধীরে ধীরে ও ডুবে যেতে লাগল মনের অজান্তে। এভাবে রাজনের সাথে ওর পরিচয়, পরিচয় থেকে পরিনয়, ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা। পুরো ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে গেল, লোপা কিছু বুঝে উঠার আগেই টের পেল যে রাজনের হাতে ওর হৃদয়টা ইতোমধ্যেই খোয়া গেছে। তবে ব্যাপারটা অনেকটাই ওয়ান সাইডেড। রাজনের কাছে লোপার যে খ্বু একটা আবেদন নেই এটা ও বেশ ভালোই বুঝতে পারে। তমার কাছ থেকে একদিন ও কৌশলে জেনে নিয়েছিলো যে রাজনের কোন বিলাভড্ নেই। তবুও রাজন ওকে এড়িয়ে চলে কেন ও জানে না। ও যথেষ্ট সুন্দরী, স্মার্ট, শিক্ষিতা ও যোগ্যতাসম্পন্না। ওর মতো একজন মেয়ের সঙ্গ অকারনে সরাসরি প্রত্যাখান করা পৃথিবার যে কোন যুবকের জন্যই অতীব অস্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিšতু এই অস্বাভাবিক ব্যাপারটাই রাজন অবলীলায় ওর সাথে করে যায়। সেজন্যেই জেদ ও হীনমন্যতা একই সঙ্গে কাজ করে ওর ভেতর। ‘আমার ডাকে সাড়া না দিয়ে ওর উপায় নেই’- এটা ওর জেদ আর ‘আমার ডাকে ও যদি সাড়া না-ও দেয় তবে তো আমার কিছুই করার নেই,’ একথা ভেবে ও হীনমন্যতায় ভোগে। ও অবশ্য মাঝে মাঝে একথাও ভাবে যে ‘আমি তো ওকে এখনো ডাকিইনি, তাহলে ও সাড়া দিবে কিভাবে’ কিন্তু বেশ ভাগ সময় ওর ভয়ই ওর বিরুদ্ধে জয়ী হয় বলে জেদটা বেশী কাজ করে না। তাই ওর আর আগানোও হয় না। শুধু ওকে মনে মনেই ভালোবেসে গেল। একদিন রাজন ওকে কথাচ্ছলে বলেছিলো- ‘তোমার চুলগুলোতো খ্বু সুন্দর!’ এরপর থেকে লোপা আর কোনদিন ওর চুল কাটেনি। যে লোপা প্রতিমাসে অন্ততঃ একবার চুল না কেটে থাকতেই পারত না, পড়ার সময় বাঁচিয়ে সে লোপা চুলের বাড়তি যতœ করা করে দিল। পরে একদিন রাজনকে একথা বলতেই ও মৃদু হেসে বল্ল- ‘তাই নাকি? আমি তো সেদিন এতো কিছু ভেবে তোমার চুলের প্রশংসা করিনি। তুমি কি এখন সত্যি সত্যিই চুল কাটা বন্ধ করে দিয়েছ?’ সেদিন লোপা কি যে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলো! আর নিজের উপরও ওর রাগ হয়েছিলো- ‘ঠিকই তো, ও তো শুধু বলেছে আমার চুল সুন্দর, চুল কাটতে তো আর নিষেধ করেনি’। রাজন ওকে কোনদিনও বুঝল না, হয়ত বুঝেও বুঝে না। তবু ওকে মনে পড়ে, ভীষণ মনে পড়ে। যেমন এখন ওর মনে হচ্ছে রাজনের সাথে কথা বলতে না পারলে ও মরে যাবে। যদিও ও জানে যে রাজন এখন বাসায় নেই, পড়াতে গেছে। তবুও মনকে স্বান্তনা দিতে ও রাজনের নাম্বারে ডায়াল করে বসল। এবং আশ্চর্যজনকভাবে ফোন রিসিভ করল রাজন। লোপার সমগ্র অস্তিত্বে প্রবল জোরে একটা ঝাঁকুনি লাগল। (৪র্থ ও শেষ পর্ব ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হবে।)
+copy125.jpg)
No comments:
Post a Comment